লাভকারী কারা ,ট্রাস্ট আন, ১৮৮২ বিধান মতে লাভভোগীদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব আলোচনা করুন , ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য লাভভোগীদের কী কী প্রতিকার আছে? ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টির দায়-দায়িত্ব আলোচনা কর
(১ (ক) লাভকারী কারা
(খ) ট্রাস্ট আন, ১৮৮২ বিধান মতে লাভভোগীদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব আলোচনা করুন ।
(গ) ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য লাভভোগীদের কী কী প্রতিকার আছে? ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টির দায়-দায়িত্ব আলোচনা কর
A_ev
(K) jvf Kvix
Kviv ?
লাভকারী (Beneficiary) — সংজ্ঞা:
ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৩ অনুযায়ী— যার বা যাদের কল্যাণের জন্য ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয়, তাকে বা তাদেরকে লাভকারী বলা হয়।
লাভকারী হতে
পারেন—
1.
যেকোনো ব্যক্তি
একজন
বা
একাধিক
ব্যক্তি লাভকারী হতে
পারেন।
2.
নাবালক (Minor)
নাবালক
সম্পত্তি পরিচালনা করতে
না
পারলেও
লাভকারী হতে
পারে।
3.
আইনি ব্যক্তি (Legal Person)
যেমন—কোম্পানি, সমিতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য
সংস্থা।
4.
অনাগত ব্যক্তি (Unborn Person)
ভবিষ্যতে জন্ম
নেবে
এমন
ব্যক্তিও লাভকারী হতে
পারে
(আইনসম্মত শর্তে)।
5.
নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ
যেমন—গরিব জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী, এতিম
শিশু
(চ্যারিটেবল ট্রাস্টে)।
6.
জনসাধারণ (Public at large)
বিশেষ
করে
চ্যারিটেবল বা পাবলিক ট্রাস্টে।
7.
নিচে
বাংলাদেশের ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী লাভভোগী (Beneficiary)-এর অধিকার ও দায়-দায়িত্ব পরীক্ষার উপযোগী
ও
ধারাসহ
আলোচনা
করা
হলো—
(খ) ট্রস্ট আইন, ১৮৮২ বিধান মতে লাভভোগীদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব আলোচনা করুন ।
ভূমিকা
ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী ট্রাস্ট গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কল্যাণ সাধন। যাদের কল্যাণের জন্য ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয়, তাদেরকে লাভভোগী বলা হয়। ট্রাস্ট কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য আইন লাভভোগীদের কিছু অধিকার ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে।
নিচে
বাংলাদেশের ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী লাভভোগী (Beneficiary)-এর অধিকার ও দায়-দায়িত্ব পরীক্ষার উপযোগী
ও
ধারাসহ
আলোচনা
করা
হলো—
লাভভোগীর অধিকার
(ট্রাস্ট
আইন, ১৮৮২ এর ধারা ১৯–২৯)
১. ট্রাস্ট সম্পত্তির সুবিধা ভোগের অধিকার (ধারা ১৯)
লাভভোগী ট্রাস্টের শর্ত
অনুযায়ী ট্রাস্ট সম্পত্তি বা
তার
আয়
ভোগ
করার
অধিকার
রাখে।
২. ট্রাস্ট সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অধিকার (ধারা ২০)
লাভভোগী ট্রাস্টিকে ট্রাস্টের উদ্দেশ্য অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে
বাধ্য
করতে
পারে।
৩. হিসাব পাওয়ার অধিকার (ধারা ২৩)
লাভভোগী ট্রাস্ট সম্পত্তি সম্পর্কিত হিসাব
ও
তথ্য
জানার
অধিকার
রাখে।
৪. ট্রাস্ট সম্পত্তি রক্ষা করার অধিকার (ধারা ২৪)
ট্রাস্টি অবহেলা
বা
অপব্যবহার করলে
লাভভোগী আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে
পারে।
৫. ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার (ধারা ২৫)
ট্রাস্টি কর্তব্যে ব্যর্থ
হলে
লাভভোগী মামলা
করতে
পারে।
৬. ভুল লেনদেন বাতিলের অধিকার (ধারা ২৬)
ট্রাস্টির বেআইনি
বা
অননুমোদিত লেনদেন
বাতিলের দাবি
করতে
পারে।
৭. ট্রাস্টির অপসারণের অধিকার (ধারা ২৭)
উপযুক্ত কারণে
আদালতের মাধ্যমে ট্রাস্টিকে অপসারণের আবেদন
করতে
পারে।
৮. নির্দিষ্ট সম্পত্তির অধিকার (ধারা ২৮)
ট্রাস্ট বিলুপ্ত হলে
সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার
লাভভোগীর থাকে।
৯. ব্যয় পরিশোধের বিরোধিতা করার অধিকার (ধারা ২৯)
অপ্রয়োজনীয় বা
অবৈধ
ব্যয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি
জানাতে
পারে।
লাভভোগীর দায়-দায়িত্ব
(ট্রাস্ট
আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৩০–৩২)
১. ট্রাস্টের বৈধ ব্যয় বহন করা (ধারা ৩০)
লাভভোগী ট্রাস্ট সম্পত্তি সংরক্ষণ ও
ব্যবস্থাপনার বৈধ
ব্যয়
বহন
করবে।
২. অবৈধ সুবিধা গ্রহণ না করা (ধারা ৩১)
ট্রাস্টির ভুল
বা
বেআইনি
কাজ
থেকে
কোনো
সুবিধা
গ্রহণ
করা
যাবে
না।
৩. প্রতারণা বা প্ররোচনায় অংশগ্রহণ না করা (ধারা ৩২)
ট্রাস্টির কর্তব্য লঙ্ঘনে
প্ররোচনা দিলে
লাভভোগী দায়ী
হবে।
উপসংহার
সুতরাং,
ট্রাস্ট আইন,
১৮৮২
অনুযায়ী লাভভোগী ট্রাস্টের সুবিধাভোগী হলেও
তাকে
আইনসম্মত আচরণ
করতে
হয়
এবং
ট্রাস্টির দায়িত্ব পালনে
সহায়ক
ভূমিকা
পালন
করতে
হয়।
অধিকার
ও
দায়িত্ব পরস্পর
সম্পূরক।
(গ) ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য লাভভোগীদের প্রতিকার কী কী আছে? ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টির দায়-দায়িত্ব আলোচনা কর
(গ)
নিচে
বাংলাদেশের ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী
ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য লাভভোগীর প্রতিকার এবং
ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টির দায়-দায়িত্ব পরীক্ষার উপযোগীভাবে ধারাসহ
আলোচনা
করা
হলো—
ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য লাভভোগীর প্রতিকার
ভূমিকা
ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী ট্রাস্টির ওপর সর্বোচ্চ সততা ও বিশ্বস্ততার দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। ট্রাস্টি তার কর্তব্য লঙ্ঘন করলে তাকে ট্রাস্ট ভঙ্গ বলা হয়। এ অবস্থায় আইন লাভভোগীদের বিভিন্ন প্রতিকার প্রদান করে এবং একই সঙ্গে ট্রাস্টির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে।
(Remedies for Breach of Trust)
ধারা ২৩, ৫৯, ৬০, ৬১ ও সংশ্লিষ্ট ধারা
ট্রাস্টি যদি
তার
আইনগত
বা
চুক্তিগত কর্তব্য লঙ্ঘন
করে,
তাকে
ট্রাস্ট ভঙ্গ (Breach of Trust)
বলা
হয়।
এ
ক্ষেত্রে লাভভোগীর নিম্নলিখিত প্রতিকার রয়েছে—
১. ক্ষতিপূরণ দাবি (ধারা ২৩)
ট্রাস্ট ভঙ্গের
ফলে
লাভভোগীর যে
ক্ষতি
হয়,
ট্রাস্টিকে তা
পূরণ
করতে
হয়।
২. অবৈধ লেনদেন বাতিলের দাবি (ধারা ৫৯)
ট্রাস্টি বেআইনি
বা
অননুমোদিতভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে
লাভভোগী তা
বাতিলের আবেদন
করতে
পারে।
৩. ট্রাস্ট সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৬০)
ট্রাস্ট ভঙ্গের
মাধ্যমে হারানো
ট্রাস্ট সম্পত্তি ফেরত
আনার
দাবি
করা
যায়।
৪. তৃতীয় পক্ষের নিকট থেকে সম্পত্তি উদ্ধার (ধারা ৬১)
যদি
তৃতীয়
পক্ষ
জেনে-বুঝে ট্রাস্ট সম্পত্তি গ্রহণ
করে,
লাভভোগী তার
বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে
পারে।
৫. নিষেধাজ্ঞা (Injunction) প্রার্থনা
আদালতের মাধ্যমে ট্রাস্টিকে ক্ষতিকর কাজ
থেকে
বিরত
রাখার
আদেশ
চাওয়া
যায়।
৬. ট্রাস্টি অপসারণ ও নতুন ট্রাস্টি নিয়োগ
গুরুতর
ট্রাস্ট ভঙ্গের
ক্ষেত্রে আদালত
ট্রাস্টিকে অপসারণ
করতে
পারে।
ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টির দায়-দায়িত্ব
(Liabilities of Trustee for Breach
of Trust)
ধারা ২৩–২৬
১. ক্ষতিপূরণ প্রদানের দায়িত্ব (ধারা ২৩)
ট্রাস্ট ভঙ্গের
ফলে
সৃষ্ট
ক্ষতির
জন্য
ট্রাস্টি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী
থাকবে।
২. অবৈধ লাভ ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব (ধারা ২৪)
ট্রাস্ট ভঙ্গের
মাধ্যমে ট্রাস্টি কোনো
লাভ
করলে
তা
ট্রাস্ট সম্পত্তিতে ফেরত
দিতে
হবে।
৩. যৌথ ট্রাস্টির দায় (ধারা ২৫)
একাধিক
ট্রাস্টি থাকলে
প্রত্যেকেই যৌথভাবে দায়ী
থাকবে।
৪. তৃতীয় পক্ষের সাথে যোগসাজশের দায় (ধারা ২৬)
তৃতীয়
পক্ষের
সাথে
যোগসাজশ করে
ট্রাস্ট ভঙ্গ
করলে
ট্রাস্টি দায়মুক্ত হবে
না।
৫. দায়মুক্তির সীমা
ট্রাস্ট দলিলের
কোনো
শর্তে
দায়মুক্তি থাকলেও
তা
প্রতারণা, অসৎ উদ্দেশ্য বা গুরুতর অবহেলার ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।
উপসংহার
অতএব, ট্রাস্ট ভঙ্গের
ক্ষেত্রে ট্রাস্ট আইন,
১৮৮২
লাভভোগীদের বিভিন্ন প্রতিকার নিশ্চিত করেছে
এবং
একই
সঙ্গে
ট্রাস্টিদের ওপর
কঠোর
দায়-দায়িত্ব আরোপ করেছে, যাতে
ট্রাস্টের উদ্দেশ্য ও
ন্যায়বিচার রক্ষা
পায়।
No comments